শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের জিডিএস (গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) ইস্যুকৃত টিকিটের বাতিল প্রক্রিয়া, এজেন্সি ডেবিট মেমো (এডিএম) এবং সামগ্রিক রিজার্ভেশন ব্যবস্থাপনায় নতুন ও কঠোর নীতিমালা কার্যকর করেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি ও টিকিটিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে এটিকে সুশৃঙ্খল ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এজেন্সিগুলোর জন্য এটি বাড়তি আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এয়ারলাইন্সটির পক্ষ থেকে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো আগের কিছু অনিয়ম বন্ধ করা। অতীতে টিকিট ইস্যু করে আসন আটকে রাখা, ফ্লাইটের নির্দিষ্ট অংশ (সেগমেন্ট) বাতিল না করেই টিকিট বাতিল দেখানো কিংবা যাত্রার ঠিক আগমুহূর্তে বুকিংয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তন করার মতো ঘটনা ঘটত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইস্যু করা টিকিট কেবল একই দিনে বাতিল করা যাবে এবং তা অবশ্যই প্রথম ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে হতে হবে। এছাড়া বুকিংয়ের সব ফ্লাইট অংশ একসঙ্গে বাতিল করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-দুবাই-মদিনা রুটের কোনো বুকিংয়ে একটি অংশ রেখে অন্যটি বাতিল করলে তা নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট বাতিল প্রক্রিয়া কার্যত নিষিদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন নীতিমালার লঙ্ঘন হলে ১০০ মার্কিন ডলার জরিমানা, প্রযোজ্য ‘নো-শো’ চার্জ এবং অতিরিক্ত ৫০ মার্কিন ডলার প্রশাসনিক ফি আরোপ করার বিধান রাখা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকলেও এখন ছোটখাটো অসতর্কতাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দলীয় বা পরিবারভিত্তিক বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি।
তবে এয়ারলাইন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করা হচ্ছে, কারণ কৃত্রিমভাবে আসন ধরে রাখা বা অপ্রয়োজনীয় বুকিংয়ের ফলে আসন ব্যবস্থাপনা ও আয় নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছিল। যারা পেশাদারভাবে বুকিং ও টিকিটিং পরিচালনা করেন, তাদের জন্য এই নিয়ম দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিসা জটিলতা, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা কিংবা যাত্রীর শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় এজেন্সিগুলোকে এখন অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও টিকিট ইস্যুর আগে ভ্রমণের তারিখ, গন্তব্য, পাসপোর্ট তথ্য ও ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ যাত্রার সময় ঘনিয়ে এলে এজেন্সির হাতে আর কোনো সুযোগ থাকে না এবং এয়ারলাইন্সের কঠোর নীতিমালার কারণে জরিমানা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনিয়মিতভাবে টিকিট বাতিল, ফ্লাইট অংশ বাতিল ছাড়া টিকিট বাতিল দেখানো কিংবা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিয়মবহির্ভূত পদক্ষেপ নিলে ১০০ মার্কিন ডলার জরিমানা, প্রযোজ্য ‘নো-শো’ চার্জ এবং অতিরিক্ত ৫০ মার্কিন ডলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএস-বাংলার নতুন টিকিটিং নীতিতে এজেন্সিগুলোর শঙ্কা, বাড়ছে কড়াকড়ি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন নিয়মের মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এয়ারলাইনটি।
সূত্র: এভিয়েশন নিউজ বিডি