শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। মাদক, অবৈধ অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া এবং ডাকাতির মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা। এরই মধ্যে মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকায় একটি ইজিবাইকের গ্যারেজে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লৌহজং থানার ওসি মো. বোরহান উল ইসলাম এবং পদ্মা উত্তর থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেনের অধীন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। কেউ কেউ দুই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কথিত ‘পকেট বাণিজ্য’ ও অনিয়মের অভিযোগও তুলছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে একটি ইজিবাইকের গ্যারেজে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল গ্যারেজে ঢুকে নৈশপ্রহরী ও চালকদের জিম্মি করে প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওয়া পুরাতন ঘাটসংলগ্ন মোহাম্মদ ফারুকের ইজিবাইকের গ্যারেজে গভীর রাতে অস্ত্রধারী ডাকাত দল প্রবেশ করে। গ্যারেজে ঢুকেই তারা কর্তব্যরত দারোয়ানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে গ্যারেজে থাকা ২৩টি ইজিবাইকের ব্যাটারি খুলে নিতে শুরু করে।
ভোররাতের দিকে কয়েকজন ইজিবাইক চালক গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার জন্য গ্যারেজে প্রবেশ করলে ডাকাত দল তাদেরও জিম্মি করে। অভিযোগ রয়েছে, চারজন চালকের হাত-পা বেঁধে রেখে ব্যাটারিগুলো নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনায় গ্যারেজের মালিক ও সংশ্লিষ্ট চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এত বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এত সময় ধরে ডাকাতির ঘটনা ঘটল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কোথায় ছিল।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকে মিলল শতাধিক ব্যাটারি, উঠছে সন্দেহ, এদিকে ঘটনার পরে শিবচর এলাকায় একটি ব্যাটারিবোঝাই ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাক থেকে প্রায় শতাধিক ব্যাটারি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিবচর পুলিশ ট্রাক ও উদ্ধারকৃত ব্যাটারিগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়।
মাওয়ার গ্যারেজ থেকে লুট হওয়া ব্যাটারির সঙ্গে শিবচরে উদ্ধার হওয়া ব্যাটারিগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্রের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ, নিরাপত্তা চান সাধারণ মানুষ, মাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, মাওয়ার ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া ব্যাটারি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনে কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি দুই থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।