মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
রংপুরে চারজন হত্যা মামলায় পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের কিছু তথ্যের অমিল দেখা গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
তবে আগামী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। সোমবার (২৪ আগস্ট) ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
এছাড়া মরদেহে এসিড বা রাসায়নিক ব্যবহারেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আরও জানুন সর্বশেষ আপডেট
চিকিৎসক জানান কয়েকদিন মরদেহ পড়ে থাকায় মুখের রং ও চেহারায় পরিবর্তন হয়েছিল। ফলে অনেকের কাছে চেহারা ঝলসে যাওয়ার মতো মনে হয়েছিল।
তবে এটি পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফল। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এরপর এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে ছিলেন, আগামী চক্রবর্তীর মুখ ও গলায় রশি পেঁচিয়ে টানা হয়েছিল।
এতে তাঁর চোয়াল ভেঙে যায় বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যে সেই চোয়াল ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করার বিষয়ে চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্যে মিল রয়েছে। ফলে তদন্তের পরবর্তী ধাপে ফরেনসিক পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
চিলেকোঠায় গণপতি এবং সিঁড়িতে প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, দোতলার শোবার ঘরে প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতরা হলেন
স্বজনদের সাড়া না পাওয়ার খবরের পর পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।
তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে।
রংপুরে চারজন হত্যা ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরও জানতে দৈনিক ঢাকা বিডি ২৪ এক্স পেজ অনুসরণ করা যেতে পারে।