শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

Headline :
দুই থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, আতঙ্কে লৌহজংবাসী তারাকান্দায় ফিশারীতে বিষপ্রয়োগ ও দুর্ধর্ষ লুটপাট, আহত ১: মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তাণ্ডব ডেমরায় নিষিদ্ধ লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতার গোপন বৈঠক: চাঁদাবাজি ও অপরাধের সাম্রাজ্য প্রশাসনের নীরবতায় ফের চালু লাইসেন্সবিহীন তামান্না ডেন্টাল কেয়ার বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও হ’ত্যার হুমকির অভিযোগ: অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি আওয়ামী চক্র পুনর্বাসনের চেষ্টা আইসিটি বিভাগে- দেখার কেউ নেই একের পর এক অভিযোগ, আলোচনায় জৈনসার ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মাওলানা মনির শেখ গণপূর্তে আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে দুদকে আবেদন ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যের ১১ দেশে মার্কিন সতর্কতা জারি মেসির অবসরে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানালেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের ফুটবলাররা

লংলা চা-বাগান থেকে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে চম্পা নাইডু

দৈনিক ঢাকার অর্থনীতি ডেস্ক / ১০০ Time View
Update Time : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
চা-বাগান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের প্রতীকী দৃশ্যে চম্পা নাইডুর পিএইচডি যাত্রা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা-বাগানে বেড়ে ওঠা চম্পা নাইডু ভারতের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি গবেষণা করছেন।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁর এই পথচলা চা-বাগানের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

চম্পা নাইডু শিক্ষাজীবনের বাঁক

২০১০ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চম্পা নাইডু ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুলে ভর্তি হন।

চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য পরিচালিত আবাসিক প্রতিষ্ঠানটিতে বিনা খরচে পড়াশোনা ও থাকার সুযোগ তাঁর শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আনে।

২০১৫ সালে এসএসসি ও ২০১৭ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি তিনি ডাচ্–বাংলা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পান।

পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের আরেকটি গল্প পড়ুন দৈনিক ঢাকা বিডি ২৪ এই প্রতিবেদনে।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে চা-বাগানের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি চা-শ্রমিক ও তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা, অধিকার ও জীবনযাত্রা নিয়ে কাজ করেন। পরে জননীতি, মানবাধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়েও তাঁর আগ্রহ বিস্তৃত হয়।

অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা

২০২৩ সালে ICCR Scholarship নিয়ে ভারতে গিয়ে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন চম্পা।

তেলুগু সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে অন্ধ্র প্রদেশে তাঁর পারিবারিক শেকড় রয়েছে। সেই টানও বিশ্ববিদ্যালয়টি বেছে নেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার ICCR Scholarship পেয়ে তিনি অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শুরু করেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও সুযোগ পেলেও পারিবারিক শেকড় ও অন্ধ্র প্রদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৫ থেকে ২০২৮ সময়কালে চলা গবেষণায় বাংলাদেশের চা-বাগানের শ্রমজীবী মানুষের জীবন, মানবাধিকার, সামাজিক বাস্তবতা, জীবনমান উন্নয়ন ও কার্যকর নীতিমালার সম্ভাবনা প্রাধান্য পাচ্ছে।

শেকড়ের মানুষের জন্য গবেষণা

চম্পার লক্ষ্য শুধু সমস্যাগুলো তুলে ধরা নয়; চা-শ্রমিকদের অধিকার, জীবনমান ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন খুঁজে দেখাও তাঁর কাজের অংশ।

তাঁর কাছে এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি চা-বাগান থেকে উঠে আসা অন্য মেয়েদের সামনে সম্ভাবনার দরজা খোলার উদাহরণ।

আজ চা-বাগানের অনেক তরুণ-তরুণী পড়াশোনা করে ভালো জায়গায় গিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।

চা-বাগান থেকে বেরিয়ে এলেও শেকড়ের মানুষদের পেছনে ফেলেননি তিনি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও আপডেট পেতে দৈনিক ঢাকার অর্থনীতি অনুসরণ করুন।

দ্রুত আপডেট পেতে দৈনিক ঢাকার অর্থনীতি অনুসরণ করুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *