মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডে ধারাবাহিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বাগেরহাটের এই কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
আগস্টের প্রথম ২৫ দিনে কেন্দ্রটি উল্লেখযোগ্য উৎপাদন ধরে রেখেছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্রটির অ্যাভেইলিবিলিটি ছিল ১০০ শতাংশ।
এ সময়ে প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। গড় উৎপাদন ছিল প্রায় এক হাজার ৭৩ মেগাওয়াট।
এর আগে জুনেও রামপাল থেকে প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। তখন গড় উৎপাদন ছিল প্রায় এক হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থিতিশীল উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের চাপ সামলাতে সহায়তা করছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী জানান, বর্তমানে দুটি ইউনিটই চালু রয়েছে।
এপ্রিল থেকে গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কয়লাও মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য প্রতিবেদন আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে।
উৎপাদনের ধারাবাহিকতা থাকলে বাড়তি চাহিদার সময় রামপাল গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারবে।
মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, কেন্দ্রটির মূল পরিচালনা এখন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতে।
ভারতীয় প্রকৌশলীরা নতুন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বর্তমানে তারা মূলত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) খাঁন নোমান শিবলী বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান অনুসরণ করে কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তার দাবি, পরিবেশগত সুরক্ষা বজায় রেখেই উৎপাদন চলছে। গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ধরে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র অতীতে কয়লা সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিজ্ঞতা দেখেছে।
তবে দুটি ইউনিট সচল থাকায় পরিস্থিতি এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল। কর্মকর্তারা ভবিষ্যতেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেছেন।
রামপালসহ বিদ্যুৎ খাতের দ্রুত আপডেট আরও জানতে দৈনিক ঢাকা বিডি ২৪ এক্স পেজে নজর রাখা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়লার মজুত ও ইউনিট সচল থাকলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
সাম্প্রতিক উৎপাদন পরিসংখ্যান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও কেন্দ্রটির সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরছে।
তবে প্রকৃত সরবরাহ প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে। তাই স্থাপিত ক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের পার্থক্য বিবেচনায় রেখেই সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।